মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

নগর ইউনিয়নের ইতিহাস

নগর ইউনিয়নের ইতিহাস

নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলার মধ্যবর্তী স্থানে উপজেলার বৃহত্তম, নগর ইউনিয়ন। উত্তর প্রান্তে বড়াইগ্রাম,মাঝগ্রাম, পুর্ব প্রান্তে জোনাইল, চান্দাই, দক্ষিন প্রান্তে গোপালপুর ইউনিয়ন এবং পশ্চিম প্রান্তে লালপুর উপজেলার কদিমচিলান , দোয়ারিয়া ইউনিয়ন। মোট জনসংখা ৪৩,৪৫৪জন প্রায়, ইউনিয়নের পশ্চিম প্রান্ত দিয়া বিশ্বরোড, কয়ান বড়াইগ্রাম কয়ান জোনাইল ৩০ কিঃ মিঃ পাকা রাস্তা যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম, উপজেলার বৃহত্তর নদী খলিশাডাঙ্গা প্রায় ১২কিঃ মিঃ,পচা বড়াল প্রায় ৩কিঃমিঃ মরা বড়াল প্রায় ১৫কিঃমিঃ এলাকায় বেষ্টিত, নদী মাতৃক ইউনিয়ন হিসাবে পরিচিত। উত্তর এলাকার পানি নিস্কাশন কল্পে চিনিডাঙ্গা বিল হইতে মরা বড়াল নদী হইয়া একটি নতুন খাল(প্রায় ৫কিঃ মিঃ) খনন করিয়া খলিশাডাঙ্গা এবং চিকনাই নদীর সঙ্গে সংযোগ করা হইয়াছে যাহা কাটা গাঙ্গ হিসাবে পরিচিত। সাতইল এবং চিনিডাঙ্গা বিলের অংশবিশেষ নগর ইউনিয়নে অবস্থিত। ঠেঙ্গামারা,বোয়ালিয়া, পাতিয়ার, চাড়ালের বিল সহ আরও কয়েকটি বিল আছে। পাঙ্গিয়ারদিঘী নামক একটি বিশাল দিঘী আছে। (প্রায় ১০০ একর সরকারী খাস সম্পতি) উক্ত স্থানে মৎস্য অভয়ারণ্য প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য একটি প্রকল্পের কাজ চলিতেছে। ইউনিয়নে নদী খাল বিল পুকুরে বর্ষার শেষ সময় প্রচুর মৎস্য পাওয়া যায়, প্রায় চারশত মৎস্যজীবি পরিবার উক্ত মৎস্য আহরণ করিয়া  এলাকার চাহিদা পুরণ শেষে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রয় করিয়া জিবিকা নির্বাহ করিয়া থাকে। মরা নদী খাল বিল সহ অনেক সরকারী জলাশয় পড়ে আছে,ৃ উদ্দ্যোগ গ্রহন করিলে মৎস্য চাষে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটতে পারে। নগর ইউনিয়ন কৃষি প্রধান এলাকা, এখানে প্রধান ফসল রোপা আমন ও বোরো ধান, শীতের সময় গম, খেসাড়ী,মশুর, মুগ কালাই, কালীজিরা,ধনিয়া,পিয়াজ, রশুন এবং প্রচুর পরিমান খেজুর গুড় সহ বিভিন্ন প্রকার শাক শবজী উৎপাদন হয় এবং এলাকার চাহিদা শেষে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রয় করিয়া থাকে। এলাকায় ইক্ষু উৎপাদনে দির্ঘদিন যাবৎ অবদান রাখিয়া আসিতেছে। ধানাইদহ,কয়ান বাজার,জালোড়া নামক স্থানে তিনটি ইক্ষু ক্রয়কেন্দ্র আছে। জলবায়ুর প্রভাবে চলতি বৎসর পনির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার কারনে খবার পানির চরম অভাব দেখা দিয়াছে এবং অনাবৃস্টির কারনে রোপা আমন ধানের ব্যপক ক্ষতি হইয়াছে। প্রতি বৎসর নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের বর্জ খলিশাডাঙ্গা নদীতে ফেলার জন্য পরিবেশের চরম ক্ষতি হয় নদীর দুই পার্শে বিশাল এলাকায় জন সাধারন দুর্রগন্ধ ও মশার কামড়ে প্রায় এক দেড় মাষ রাত্রে ঘুমাইতে পারে না, নদীর সমস্ত মাছ মরিয়া পানিতে ভাসিয়া উঠে এবং বিভিন্ন প্রকার রোগ বালাই দেখা দেয়। বিষয়টি অত্যন্ত জন গুরুত্বপুর্ন বিধায় সংস্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনিয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রকাশ করা হইল। ইতিহাসের সাক্ষ্য হিসাবে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত ১১ই এপ্রিল প্রতিরোধ যুদ্ধে শাহাদত বরণ কারী ৬১ জন  শহিদের উদ্দেশ্যে নির্মিত দুইটি গনকবর যাহার একটি উপজেলার বৃহত্তর ধানাইদহ ব্রীজের দক্ষিন পার্শে ও অন্যটি পারকোল গ্রামে। পাঁচবাড়ীয়া শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ বিগ্রোহ মহদ্বয়ের জমিদার বাড়ী, প্রায় তিন শত বৎসর পূর্বে মঙ্গল সওদাগর  নামে একজন জমিদার একটি বিশাল দিঘী খনন করিয়া জামাইকে উপহার দিয়া নাম রেখেছিলেন জামাইদিঘী, বর্তমান জামাইদিঘী গ্রাম বা মৌজা নামে পরিচিত। উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে খলিশাডাঙ্গা মহাবিদ্যলয়, পাঁচবাড়ীয়া উচ্চবিদ্যালয়, ধানাইদহ সিনিয়ার মাদ্রাসা, পাঁচবাড়ীয়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, মেরিগাছা ও নগর উচ্চবিদ্যালয়, পাঁচবাড়ীয়া কলতান সংগীত বিদ্যালয় । বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন ডক্টরেট, একজন হাই কমিশনার, একজন বেতার শিল্পী, দেশের খ্যাতিনামা ডাক্তার, আইনজিবী, দৈনিক প্রত্রিকার সম্পাদক, নগর ইউনিয়নের উন্নয়নে ও সেবামূলক কর্মে ইতিপূর্বে অবদান রাখিয়াছেন তাহাদের তলিকা নিম্নে বর্ণনা করা হইল।

 

 

নগর ইউনিয়নের উল্লেখযোগ্য ব্যাক্তিগনের নামের তালিকা

ক্রমিক

উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিবর্গের নাম

পিতার নাম

জন্মস্থান

পদবী

কর্মস্থল

শ্রী অশোক চন্দ্র ভৌমিক

প্রয়াত ডাঃ তারকচন্দ্র ভৌমিক

পাঁচবাড়ীয়া

হাই কমিশনার

ভারত

প্রয়াত রিয়জউদ্দিন সরকার

প্রয়াত মেহেরউদ্দিন সরকার

জামাইদিঘা

ডি,এ,জি

ঢাকা

প্রয়াত আফাজউদ্দিন সরকার

প্রয়াত মেহেরউদ্দিন সরকার

জামাইদিঘা

ডি,এ,জি

ঢাকা

ডঃ মোঃ আফছার আলী

প্রয়ত হাসান আলী মোল্লা

লক্ষ্মীচামারী

 প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার বকলেইন সেণ্টার, এমএন. (আমেরিকা)

আমেরিকা

ডঃমোঃ খোরশেদ আলম

প্রয়াত হাসান আলী মেল্লা

লক্ষ্মীচামারী

কৃষি বিশেষজ্ঞ ঢাকা

ঢাকা

ডঃ মোঃ মোজাম্মেল হক

প্রয়াত অমরা মোল্লা

নিতাইনগর

স্বর্ণ খনি বিশেষজ্ঞ কানাডা

কানাডা

ডঃ মোঃ আঃ আওয়াল

প্রয়াতআঃ গফুর খন্দকার

মেরিগাছা

কৃষি বিষেশজ্ঞ নাটোর হটিকালচার

নাটোর

এডভোকেট মোঃ রুহুল কুদ্দুস (বাবু)

প্রয়াত আজিজুর রহমান

মেরিগাছা

বিচারপতি সুপ্রিমর্কোট

ঢাকা

 

মোঃ আবুল হোসেন মালেক

প্রয়াত আল্লেক প্রাং

পাঁচবাড়ীয়া

দৈনিক সোনারদেশ  সম্পাদক

রাজশাহী

প্রয়াত এম এ আহসান

প্রয়াত আমিন প্রাং

পাঁচবাড়ীয়া

বেতার শিল্পি

রাজশাহী

১০

প্রয়াত ডাঃ শাহজাহান

প্রয়াত মহিরুদ্দিন

দারিখৌর

পিজি হাসপতাল (এফসিপিএস)

ঢাকা

১১

প্রয়াত খিতিশ চন্দ্র রায়

প্রয়াত জগৎচন্দ্র রায়(জমিদার)

পাঁচবাড়ীয়া

নাটোর কোটের প্রখ্যত আইনজিবি

নাটোর

১২

প্রয়াত আঃ রশিদ খাঁন

প্রয়াত মানিক খাঁন

মহেশপুর

প্রেসিডেন্ট

নগর ইউ,পি

১৩

প্রয়াত বাবু সুরেন্দ্রনাথ সান্ন্যাল

প্রয়াত তারনীনাথ সান্ন্যাল

পাঁচবাড়ীয়া

প্রেসিডেন্ট

নগর ইউ,পি

১৪

প্রয়াত মোহাম্মাদ আলী সরকার

প্রয়াত মানিকুল্লা সরকার

আটাই

প্রেসিডেন্ট

নগর ইউ,পি

১৫

প্রয়াত করম আলী সরকার

প্রয়াত পাতালী সরকার

দ্বারীখৈর

প্রেসিডেন্ট

নগর ইউ,পি

১৬

প্রয়াত রইশ উদ্দিন শাহ

প্রয়াত রশিকুল্লাহ শাহ

মহানন্দাগাছা

প্রেসিডেন্ট

নগর ইউ,পি

১৭

প্রয়াত মজিরুদ্দিন প্রাং

প্রয়াত ময়েজুদ্দিন প্রাং

ধানাইদহ

প্রেসিডেন্ট/চেয়ারম্যান

নগর ইউ,পি

১৮

প্রয়াত আঃ লতিফ সরকার

প্রয়াত আজিজুর রহমান সরঃ

আটাই

চেয়ারম্যান

নগর ইউ,পি

১৯

জনাব মোহাম্মাদ আলী

মোঃ মোবারক আলী মন্ডল

নগর

চেয়ারম্যান

নগর ইউ,পি

২০

প্রয়াত মীর আমজাদ হোসেন

প্রয়াত মীর কুমরুদ্দিন

মহেশপুর

চেয়ারম্যান

নগর ইউ,পি

২১

জনাব মোঃ হাফিজুর রহমান

প্রয়াত আঃ হামিদ সরকার

বড়দেহা

চেয়ারম্যান ভারপ্রাপ্ত

নগর ইউ,পি

২২

জনাব মোঃ নওশাদ আলী

প্রয়াত গেদু প্রাং

কয়ান

চেয়ারম্যান

নগর ইউ,পি

২৩

জনাব মোঃ আঃ সালাম সরকার

প্রয়াত এরশাদ আলী সরকার

পিঙ্গইন

চেয়ারম্যান

নগর ইউ,পি

 

স্বাধীনতা যুদ্ধে ধানাইদহ রনাঙ্গন

            ২৫শে মার্চের পর হইতে এলাকার জনগন অপেক্ষায় ছিল এবং প্রস্ত্তত ছিল প্রতিরোধ যুদ্ধের জন্য। ১১ই এপ্রিল বেলা প্রায় নয় ঘটিকার সময় পবনা নাটোর হইতে  প্রায় চার পাঁচ শত ইপিআর, পুলিশ ও আনছার বাহিনী বন্দুক রাইফেল ষ্টেনগান মেশিনগান রকেট ল্যানসার সহ বিভিন্ন অস্ত্র লইয়া গাড়ী যোগে কয়ান বাজারে আসিয়া জানায় পাক হানাদার বাহিনী পাবনা শহর দখল করিয়া নিয়েছে। তাদের প্রতিরোধ করিবার জন্য্ ধানাইদহ বীজ উপযুক্ত স্থান হিসাবে তারা বেছে নিয়েছিলেন। শতস্ফুর্ত ভাবে জনগন এবং ইপিআর আনছার বাহিনী একটি প্রতিরোধ যুদ্ধের জন্য প্রস্ত্তত হয়। বেলা এক ঘটিকার সময় সম্মুখ সমরে যুদ্ধ শুরু হয়, প্রায় দুই ঘন্টা গুলি বিনিময়ের পর পাক হানাদার বাহিনী পিছু হটিয়া গিয়া, গড়মাটী ঘাট পার হইয়া পারকোল,পাঁচবাড়ীয়ার গ্রামের মধ্য দিয়া পিছন দিক থেকে পূনরায় আক্র্মন করে। এবং বাড়ী ঘরে আগুন দিয়া আতঙ্ক শৃষ্টি  করিয়া ফেলে। হানাদাররা পিছনে আক্রমন করিলে মুক্তিযোদ্ধারা বেকায়দায় পড়ে পিছু হটে যায়। পাক হানাদার বাহিনী সন্ধার সময় কয়ান ধানাইদ বাজার দখল করিয়া নেয়। পারকোল গ্রামের সান্ন্যালের পুকুর নামক স্থানে প্রায় ত্রিশ জন আশ্রীত সাধারন মানুষকে গুলী করিয়া মারিয়া ফেলে  পাঁচবাড়ীয়া,কয়ান, ধানাইদহ গ্রামের সাতাশ জন এবং চারজন ইপিআর সহ মোট একষট্টি জন উক্ত যুদ্ধে শাহাদৎ বরন করেন। পাক হানাদার বাহিনী কয়ান গ্রামের পায় আড়াইশত এবং পারকোল,পাঁচবাড়ীয়া,ধানাইদহ গ্রামের শতাধিক বাড়ি পেট্রোল দিয়া আগুন ধরাইয়া পুড়াইয়া দেয়। স্বাধিনতার পর মুক্তিযুদ্ধে বৃহত্বর রাজশাহী জেলার বেশী ক্ষতিগ্রস্থ গ্রাম হিসাবে কয়ান গ্রামকে আদর্শ গ্রাম করিবার পরিকল্পনা সরকার গ্রহন করেন। ১১ই এপ্রিল যুদ্ধে শহিদ যোদ্ধাদের স্মৃতি ধরে রাখার উদ্দেশ্যে সরকারী ব্যবস্থাপণায় নির্মিত আছে ধানাইদহ বীজের দক্ষিন পার্শে ও পারকোল গ্রামে দুইটি গন কবর। এলাকাবাসির দাবী ধানাইদহ ব্রিজের নিকট একটি স্মৃতিশোধ নির্মানের।


Share with :

Facebook Twitter